
যেটুকু সাধ্য আমার
February 21, 2026
গৃহত্যাগী জোছনা
একটা বিচিত্র পরিবেশে ছিল আমার শৈশব। গাঢ় রহস্যের মতো ঘিরে ছিল শৈশবের চারদিক। নানাজানের একটি মাত্র মেয়ে রহিমা। সবাই আদর করে ডাকে রহিমন। তিনি আমার মা। মায়ের বিয়ে হয় খুব ধুমধাম করে। পুরো গ্রামের দাওয়াত ছিল। একটি মাত্র মেয়ে বলে কথা। মোরগ-পোলাও, গোরুর মাংস, সাদা ভাত, সঙ্গে মিষ্টি ও মিষ্টি দইয়ের ব্যবস্থা। নামকরা কারিগর নেপাল বাবু বিয়ের দুদিন আগে বাড়িতে এলেন। আত্মীয়স্বজনে ভরে উঠেছিল বাড়ি। নানাজান গঞ্জ থেকে পালকি আনার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু এখন? বাবা মারা যাওয়ার পর মা এই বাড়িতে আছেন গরিব আত্মীয়ের মতো। কেউ আদর করে কাছেও বসাতে পারে না আবার দূরে ঠেলেও দিতে পারে না। কিন্তু আমার মায়ের অনেক অহংকার। আর তা সব এখন আমাকে ঘিরে। তাঁর অহংকার প্রকাশ পায় যখন আমাকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেন। আমিও একদিন তাঁর স্বপ্নের সমান বড়ো হয়ে উঠতে থাকলাম। মাঝে মাঝে লক্ষ করতাম, শেফালী তার ঘরের জানালা দিয়ে ঘোরগ্রস্ত হয়ে আমাকে দেখছে। তখন আমার এই প্রাচীন বাড়ির প্রতি খুব গাঢ় মমতা বোধ হতো। তার পরও একদিন এ বাড়ির মায়ামমতা ভুলে, সবকিছু তুচ্ছ করে গৃহত্যাগ করলাম। প্রাচীন বাড়ির যে রাত, বড়ো সুন্দর রাত হওয়ার কথা ছিল। আনন্দের রাত হওয়ার কথা ছিল। ছিল ফুটফুটে জোছনায় সুপ্ত, জুঁই-বেলির গন্ধে আনন্দে নেচে ওঠার। কিন্তু তা না হয়ে, সে রাত হলো অত্যন্ত বেদনার রাত। শোকের রাত।


