প্রথম প্রেম
February 10, 2026
যেটুকু সাধ্য আমার
পুত্র নিভানের মতো একদিন আমিও ছোট ছিলাম। আমার বাবা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। বকশীগঞ্জ বাজারের তাঁর ঢেউটিন ও কাপড়ের ব্যবসা ছিল। প্রত্যেক সপ্তাহের শনিবার ও মঙ্গলবার দিনে নঈমিয়া নামের একটি বাজারে হাট বসত। সে হাট এখনো বসে। সে হাটে বাবা কাপড় বিক্রি করতে যেতেন। বাবা ভার কর্মচারীকে দিয়ে কাপড়ের পার্টটি বোচকা মহিষের গাড়িতে করে খুব সকালে পাঠিয়ে দিতেন। দুপুরের খাবার খেয়ে বাবা ধীরেসুস্থে হাটের দিকে রওনা হতেন। এক দুপুরে বাবা সুন্দর একটা সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরে, হাটের উদ্দেশ্য রওনা দিচ্ছেন। আমি বাবার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। বললাম, বাবা আমিও তোমার সঙ্গে হাটে যাব। বাবা আমার কথা শুনে হকচকিয়ে গেলেন। বললেন, হাটে গিয়ে কি করবে?
আপনার সাথে কাপড় বিক্রি করব। বাবা তার ছোট পুত্রের কথা শুনে খুব আনন্দও পেলেন আবার ব্যখিতগু হলেন। বললেন, তুমি হাটে কাপর বেচবে কেন। তিনি খুব যত্ন করে আমাকে কোলে তুলে নিলেন। কপালে গালে চুমু খেয়ে বললেন, হাটবাজার ভালো না বাবা। অনেক ভিড় হারিয়ে যাবা।
আমি কিছুতেই বাবার হাত ছেড়ে দিলাম না। বাবার রওনা দিলাম। তখন তেমন রিকশা, ভ্যানগাড়ি সঙ্গে
চলে না। চললেও
সচারআচর পাওয়া যেত না। বাবা আমাকে যাড়ে নিয়ে হাটতে লাগলেন। মাটির বাস্তা ধরে হাঁটছেন। রাস্তার দু'ধারে আধাপাকা ধান ক্ষেত বাতাসে দুলছে। নীলাকাশে সাদা ছেড়া মেষের টুকরো ভেসে যাচ্ছে। নির্মল স্নিগ্ধ বাতাস। বাবার কাঁধে পৃথিবীকে কেন জানি খুবই সুন্দর লাগছে।


